সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

এলপিজি গ্যাসবাহী যানবাহনে মাদক পাচার: নতুন উদ্বেগ

মুহাম্মদ এরশাদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ॥
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সরবরাহকারী যানবাহন ব্যবহার করে মাদক পাচারের একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিছু অসাধু ড্রাইভার ও হেলপার এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে গ্যাস সরবরাহের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার আড়ালে গড়ে উঠছে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক।

সূত্র জানায়, এলপিজি গ্যাস বহনকারী ট্যাংকারগুলো নিয়মিত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যাতায়াত করে। এই চলাচলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু ড্রাইভার ও হেলপার গোপনে ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য পরিবহন করছেন। এসব গাড়ি সাধারণত নিরাপত্তা তল্লাশির বাইরে থেকে যায় বা খুব কমই কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়, যা পাচারকারীদের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার মতে, এই চক্রটি ধীরে ধীরে সংগঠিত রূপ নিচ্ছে। তারা জানান, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি ইতোমধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। অনেক ড্রাইভার ও হেলপার অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন, যা তাদের আয়ের উৎস নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অনেকেই নিজেরাও মাদকাসক্ত। প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে যেতে তাদের ইয়াবা, গাঁজা কিংবা মদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন তারা নিজেরাই আসক্তির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে মাদক ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক সময় গ্যাস ট্যাংকারের ভেতরে বা গোপন চেম্বারে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়। এছাড়া রুট পরিবর্তন, নির্দিষ্ট স্থানে থেমে পণ্য বিনিময় এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সরবরাহের মতো কৌশলও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ চোখে বিষয়টি ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।

সচেতন মহল এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে এলপিজি পরিবহনকারী যানবাহনগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি বাড়ানো এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করার পরামর্শ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ড্রাইভার ও হেলপারদের নিয়মিত ডোপ (ড্রাগ) টেস্ট চালুর দাবি উঠেছে। এতে করে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তারা যাতে এই পেশায় থাকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া পরিবহন কোম্পানিগুলোকেও তাদের কর্মীদের কার্যক্রমের ওপর আরও কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। ড্রাইভার ও হেলপারদের জন্য পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে অনেকেই এই অবৈধ পথ থেকে ফিরে আসতে পারেন।

সব মিলিয়ে, এলপিজি গ্যাস পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে মাদক পাচারের এই অভিযোগ দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com